Tears of Victim

রানা প্লাজা গণহত্যা

507

২৩ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে সাভারের রানা প্লাজা ভবনের ফাটল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে স্থানীয় সংবাদ চ্যানেলে দেখানো হয়েছিল। পরের দিন ছিল ১৮ দলীয় জোটের দেশব্যাপী হরতাল। ভবনের মালিক সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা হরতাল বিরোধী মিছিল করার জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকদেরকে কাজে আসতে বাধ্য করেন এবং সুপারভাইজার ভবনটিকে নিরাপদ ঘোষণা করেন।

২৪ এপ্রিল ২০১৩ সকাল ৮:৪৫ টার দিকে প্রথম তলা বাদে নয় তলা ভবনটির বাকি সবগুলো তলা ধসে পড়ে। ধসে পড়ার সময় ভবনটিতে প্রায় ৩০০০ কর্মী ছিল। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে হঠাৎ করে বিকট শব্দ এবং কাঁপনে তারা ভূমিকম্পের আশঙ্কা করেন। পরে বেরিয়ে দেখেন বিরাট এলাকা ধুলাবালিতে ধোঁয়াটে হয়ে পড়েছে। ঐ সময় ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিল নারী যাদের অনেকের সাথে তাদের শিশু সন্তানও সেখানে ছিল।

ধসে পড়া ঐ ভবনের ধ্বংসস্তুপ থেকে ১২ মে, ২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ১,১২৬ জনের নিহত হবার তথ্য পাওয়া গেছে যা বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই ঘটনায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়। সাধারণ জনগণ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালায়। ভবনটিতে পোশাক কারখানা, একটি ব্যাংক এবং একাধিক অন্যান্য দোকান ছিল, সকালে ব্যস্ত সময়ে এই ধসের ঘটনাটি ঘটে।

ভবনটিতে ফাটল থাকার কারণে ভবন না ব্যবহারের সতর্কবার্তা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে রানা প্লাজা নির্মাণ করার আগে জায়গাটি ছিল পরিত্যক্ত ডোবা। ভবনের মালিক রানা জোরপুর্বক জায়গা দখল করে বালু ফেলে এটি ভরাট করে এবং ভবনের পাঁচতলা করার অনুমোদন থাকলেও উপরের চার তলা অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে নির্মাণ করে। রানা ছিল আওয়ামী লীগের এমপি তৌহিদ জং মুরাদের অধীনস্থ কর্মী এবং সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। অনুমতি না থাকলেও আওয়ামী লীগের জোর খাটিয়ে বিল্ডিং তৈরি এবং ফাটল চিহ্নিত হওয়ায় ঐ বিল্ডিং ব্যবহারের অনুপযোগী হিসাবে ঘোষিত হওয়ার পরেও সেখানে সবাইকে আসতে বাধ্য করায় এ হত্যাকাণ্ডের দায়ভার ভবন মালিক রানার ওপরেই বর্তায়।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.