Tears of Victim

সাধারন শিক্ষার্থীদের উপর আওয়ামী হামলা

642

আওয়ামী সরকার বিগত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু পড়াশুনার পরিবেশ বিঘœ ঘটানোর পাশাপাশি তাদের উপর চালিয়েছে ন্যক্কারজনক হামলা। গত পাঁচ বছর ধরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল দখল করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর চালিয়েছে অমানবিক নির্যাতন। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা নিজেদের মধ্যে এবং অন্য মতাবলম্বী ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়।

বুয়েটের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যেখানেই পড়ালেখা করুক না কেন তাদের সবার চরিত্রই এক- বুয়েটের হোক বা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়েরই হোক। দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটেও এদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেমে থাকেনি। বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া, তাদের উপর হামলা, আগুন দিয়ে রুমের মালামাল পোড়ানো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপকর্মের সাথে লিপ্ত ছিল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।


২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী শেষ বর্ষের ছাত্র ঈশানের উপর বর্বর হামলা চালায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। ০৬ ব্যাচের র‌্যাগ ডে উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রলীগের কিছু নেতা অনধিকার প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেয় দায়িত্বরত ঈশান। যার জের ধরে হলে তাকে একা পেয়ে বেসবল ব্যাট, হকিস্টিক আর লোহার রড নিয়ে ঈশানের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী সুজিত, লিমন আর দ্বীপ। তার দুই পা থেঁতলে দেয়াসহ হাতের উপর উপর্যুপরি হামলার ফলে তার এক হাত জয়েন্ট থেকে আলগা হয়ে যায়। বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুললে ভিসি অপরাধীদেরকে বহিষ্কার করলেও কিছুদিন পরে তারা হাইকোর্টের নির্দেশনা নিয়ে ঠিকই আবার ক্যাম্পাসে এসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। এছাড়া বুয়েটে ভিসি বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়, এক পর্যায়ে তারা আন্দোলনকারীদের মাইক ভাংচুর করে এবং শিক্ষকদের অবস্থানকৃত রুমের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে তাদের উপর হামলা চালানোর অপচেষ্টা চালায়।

কুয়েটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা
০২ জানুয়ারি ২০১২, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর অমর একুশে হলে বার্ষিক প্রীতিভোজের টাকা ছাত্রলীগের কর্মীরা আত্মসাৎ করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও সাধারণ ছাত্রদের মাঝে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ পুলিশের সহযোগিতায় বহিরাগত যুবলীগকে সাথে নিয়ে রাম দা, চাপাতি, লোহাড় রড ও হকিস্টিক দিয়ে প্রতিবাদকারী নিরীহ ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। এতে শিক্ষক ও ছাত্রসহ ২৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ উল্টো বাদী হয়ে হলের আড়াইশ থেকে তিনশ নিরীহ ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হলের কিছু নিরপরাধ ছাত্রকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে।

কোটাবিরোধী আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা
সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপরও হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ১২ জুলাই ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ হামলা চালিয়ে ৩৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আটক করে। তারই প্রতিবাদে ১৩ জুলাই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মীরা এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এতে ৮ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে এই হামলা চালানো হলেও পুলিশ এর কোন প্রতিবাদ না করে বরং ছাত্রলীগের কর্মীদের সহায়তা করেছে।

বাকৃবিতে ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা
২০১২ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি কমানোর যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগ বর্বর হামলা চালায়। এই সময় ছাত্রীদের উপরও হামলা চালায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্রীসহ ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। আওয়ামী মদদপুষ্ট প্রক্টরও ছাত্রীদের উপর হামলা চালায়। উপস্থিত ছাত্রীদের চুল ধরে টানাটানি, কিল ঘুষি সহ বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা
২৮ এপ্রিল ২০১২ সালে ভিসিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে প্রায় তিন মাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকার প্রেক্ষিতে ক্যা¤পাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ২৮ এপ্রিল সাংস্কৃতিক কর্মীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নৃশংস হামলা চালানো হয়। রক্তাক্ত হয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ঐদিন থেমে থেমে সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষকদের ওপর তিন দফা হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যদিও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে অনেক আগে থেকেই ছাত্রলীগের এই শাখার কর্মকাণ্ড স্থগিত ছিল। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি কলি মাহমুদ।


সিলেটে এমসি কলেজে ছাত্রলীগের আগুন
৮ জুলাই ২০১২ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। দুই শতাধিক বহিরাগত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী দ্বারা ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রলীগ এবং এর পরেই আগুন লাগিয়ে দেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। আগুন জ্বলাকালীন সময়ে ছাত্রবাসের বাইরে এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি দেবাংস দাস ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পঙ্কজ পুরকায়স্থের নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলছিল। এমসি কলেজের ‘শ্রীকান্ত ছাত্রাবাস’ ছাড়া বাকি সব গুলো ছাত্রাবাস পুড়ে যায়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। সরেজমিন গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলা
৫ জানুয়ারি ২০১২, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তির বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা সকালে ক্যা¤পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। ছাত্রলীগের এই হামলায় ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকে। হামলায় সাংবাদিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে (উৎপল কুমার, উজ্জল কুমার, আহসান হাবীব এবং বাবুল আক্তার) আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার সময় ছবি তোলায় কালেরকন্ঠ পত্রিকার ফটোসাংবাদিক নিরঞ্জন চক্রবর্তী ও স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক আরমানের উপর ছাত্রলীগ কর্মীরা হামলা চালায়।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.