Tears of Victim

আওয়ামী কর্তৃক বিরোধী নেতাকর্মী খুন

520

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাঁচ বছরে দেশ ‘পলিটিক্যাল কিলিং জোনে’ পরিণত হয়। পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সারাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী খুনের ঘটনা ঘটেছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। বিএনপি দাবি করেছে, তাদের ৩০ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ, তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ ঘটনারই চার্জশিট দাখিল করেনি পুলিশ; এমনকি এসব হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদেরও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৪৫ বিরোধী নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন দাবিতে মাঠে নামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্বিচারে চালানো গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়েছেন অনেকেই।

অভিযোগ রয়েছে, নিহতদের পরিবার এসবের কোনো সুষ্ঠু বিচার পায়নি। অনেক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরও করতে পারেনি। পুলিশ বাদি হয়ে উল্টো দলীয় নেতাকর্মী, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে আসামি বানিয়ে মামলা করে হয়রানি করছে। দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে নির্যাতন চালিয়েছে। কিছু ঘটনায় তীব্র অভিযোগ ওঠায় গুলিবর্ষণকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। আর তদন্ত সংস্থা সেই পুলিশ বাহিনীর সদস্য অথবা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনেক ঘটনা পুলিশ দিয়ে তদন্তের নামে আইওয়াশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চার বছরেই রাজনৈতিক সহিংসতা ও দুর্বৃত্তায়নের ফলে ৭৭৫ জন নিহত হন। চলতি বছর ২০১৩ তে সহিংসতা আরও বেড়েছে। অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর জানুয়ারি মাসেই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে ১৭ জন নিহত এবং ১৬৪৩ জন আহত হয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে গত ৩১ জানুয়ারি জামায়াতের ডাকা হরতালে বগুড়ায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণে ছাত্রশিবির নেতা আবু রুহানী ও কর্মী আবদুল্লাহ এবং জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান নিহত হন। গত ৬ ফেব্রুয়ারী হরতাল চলাকালে চট্টগ্রামে জামায়াতের মিছিলে পুলিশ অতর্কিত গুলিবর্ষণ করলে চার নেতাকর্মী নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন দল দুটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক। পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ একাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে হাতে-পায়ে গুলি করেন। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল-সমাবেশকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে চার ব্যক্তি নিহত হয়। লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা রুবেল এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকায় আনার পথে বিকালে আবুল কাশেম মারা যান। অপরদিকে পুলিশের গুলিতে চাঁদপুরে লিমন ও আবুল হোসেন নামে দু’জন নিহত হন। চাঁদপুরে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত হন। ২৮ ফেব্রুয়ারী আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষণার পর রায়ের প্রতিবাদকারীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে যৌথ বাহিনী।

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের প্রতিবাদে ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল হরতাল চলাকালে সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশ-ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সংগ্রাম পরিষদের মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গোলাগুলি ও ভয়াবহ সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা সেলিম আহমদ এবং যুবদল নেতা মনোয়ার হোসেন ও জাকির হোসেন নিহত হন। একই বছর ২৮ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর সদর থানার পোদ্দার বাজারে হরতালের পক্ষে বিএনপির মিছিলে পুলিশের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা গুলি চালালে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে। ৯ নভেম্বর ২০১৩ জয়পুরহাটে শিবির নেতা বদিউজ্জামান পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বিকালে রাজশাহীতে বিএনপিসহ জোটের গণমিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণ ও অতর্কিত হামলায় শেখ শফিকুল ইসলাম শফিক নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়।

২০১০ সালের ২৩ অক্টোবর রূপগঞ্জে সেনাবাহিনীর নিজস্ব আবাসন প্রকল্পের জমি কেনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ জামাল নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বিএনপির মিছিলে হামলা চালিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুকে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে এবং সাপ পেটানোর মতো নির্দয়ভাবে পিটিয়ে, দুই পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই মামলার ২৭ আসামিকেই জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। ঠিক একই কায়দায় গত ৫ অক্টোবর রাতে বাবুর চাচা উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল বাশার মাস্টারকেও হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয় দশজন। অপহরণের পর হত্যা করা হয় যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলামকে। ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার বাংলামোটরে নিজ ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে বের হয়ে তিনি আর বাসায় ফিরে আসেননি। পরদিন গাজীপুরের শালবনে তার লাশ পাওয়া যায়। ইসলামের অবমাননাকারী নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী ইসলামী ও সমমনা দলসমূহের হরতাল চলাকালে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে পুলিশের নির্বিচারে চালানো গুলিতে আলেম ও মহিলাসহ পাঁচজন নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। এ ঘটনায় পরদিন জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হয়।

গত পাঁচ বছরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিজ দলের কর্মীদের হত্যার সাথে সাথে তারা বিরোধী সংগঠনের নেতা কর্মীদের হত্যা করে। হল থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি চালায় তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন। ভিন্ন মতাবলম্বী ভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর তারা নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানোর পাশাপাশি তাদেরকে হত্যা করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তারা এই হত্যাযজ্ঞ চালানো শুরু করে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে গত সাড়ে চার বছরে ছাত্রশিবিরের ১০ জন নেতাকর্মীসহ বিরোধী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা কর্মীকে হত্যা করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।

ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীকে হত্যা
২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ছাত্রলীগের কর্মীরা শুরু করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন। তাদেরকে হল ত্যাগে বাধ্য করাসহ তাদের ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগের সাড়ে চার বছরে ১১ জন শিবির নেতা কর্মীকে হত্যা করে।


২০০৯ সালের ৯ মার্চ রাজশাহীতে জামালপুরের মেধাবী ছাত্র হাফেজ রমজান আলীকে অপহরণ করে নিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সারা শরীরে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ফেলে তাকে হত্যা করা হয়। তারই ৪ দিন পর ১৩ মার্চ ২০০৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৮ জন নেতা কর্মীকে আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দিতে থাকে। তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সেক্রেটারি শরিফুজ্জামান নোমানীসহ কয়েকজন সেখানে পৌঁছালে পুলিশের সহযোগিতায় রামদা দিয়ে শরীফুজ্জামান নোমানীর উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা।


২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন মাসুমের উপর রাতের আঁধারে ওঁৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে যায়, হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

২০১০ সালের ২৮ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরকর্মী হারুন অর রশীদকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা জবাই করে হত্যা করে। ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় গুলি করে হত্যা করে শিবিরের সদস্য মাসুদ বিন হাবিব ও মুজাহিদুল ইসলামকে। ১৩ এপ্রিল ২০১২ সালে কুষ্টিয়ায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ধারালো ফালা নিক্ষেপ করে হত্যা করে আব্দুল্লাহ আল মঞ্জুকে। এছাড়া ২০১৩ সালে আকমল হোসেন, আব্দুল আজিজ, সবুজ আহমেদ এবং আল মুকিত তরুণকে হত্যা করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদলের কর্মী আবিদ হত্যাকাণ্ড
ছাত্রলীগের হত্যার রাজনীতির আরেক শিকার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র আবিদুর রহমান আবিদ। কলুষিত রাজনীতির শিকার, ছাত্রলীগ ক্যাডারদের নির্মম নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে অকালে হারিয়ে গেল বড়ইতলী গ্রামের স্বপ্ন আবিদ। তার মায়ের আকুতিতে কি সরকারের টনক নড়বে? আবিদ এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। প্রায় দু’দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২১ অক্টোবর, ২০১২ রাত ৮টার দিকে মারা যান তিনি। এছাড়া চমেকের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ইয়াছিন, রিজভী, মিনহাজ, ফয়সাল, ওবায়েদ ও তৌফিক নামে ৬ ছাত্র আহত হয়। আবিদ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।

নাটোরে বিএনপি নেতা বাবু খুন
২০১১ সালের ৮ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাজারে বিএনপির পূর্বঘোষিত মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করে প্রকাশ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুকে পিটিয়ে, কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মহুয়া নূর কচি বাদি হয়ে ঘটনার পরদিন ৯ অক্টোবর রাতে নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা স¤পাদক কে এম জাকির হোসেনকে প্রধান, তার সহোদরকে এম জামিল হোসেনকে দ্বিতীয় ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কে এম জিল্লুর রহমান জিন্নাকে তৃতীয় এবং বনপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি খোকন মোল্লাকে চার নম্বর আসামি করে ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০ জন মিলিয়ে মোট ৪৭ জনের বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেন।

রাজশাহী পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রমৈত্রী নেতা নিহত
২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বুধবার সকালে ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সানি নিহত হন। সংঘর্ষে মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সানি মৃত্যুবরণ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রমৈত্রীর পলিটেকনিক শাখার সভাপতি ও ক¤িপউটার বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী মোতালেব জুয়েল, সহসভাপতি সপ্তম পর্বের শিক্ষার্থী রেজানুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে সানি এবং একই পর্বের (সেমিস্টার) শিক্ষার্থী সহসভাপতি শেফারত আলী ওরফে বুলবুল বেলা ১২টার দিকে মেইন গেট দিয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ঢোকেন। এ সময় প্রশাসন ভবনের কাছে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাম দা লোহার রড নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা উপর্যুপরি রাম দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের আহত করে। প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত পুলিশ তাদের বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশকেও মারধর করে। এতে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ সদস্য শহিদুল ইসলাম ও আশরাফ আলী আহত হন। ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় শহীদুলের একটি আঙুল কেটে যায়। আহতদের মধ্যে সহসভাপতি সানির মাথার মগজ বের হয়ে যায়। বুলবুলের মাথায় গুরতর জখম হয়। তার চোখের মধ্যে রক্ত জমে যায়। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সভাপতি জুয়েলও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তার ডান হাতের একটি আঙ্গুল কেটে পড়ে যায়। রামেক হাসপাতালে নেয়ার পরে সানিকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয় এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বুলবুলকে ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লক্ষ্মীপুর এলাকায় আধা ঘন্টার বেশি সময় ধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে রাজপাড়া থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.